বৃহস্পতিবার, ১৯ এপ্রিল ২০১২
কুয়াকাটা প্রতিনিধিঃ কুয়াকাটার গোড়াআমখোলা পাড়ায় বিপুল উত্সাহ উদ্দীপনাও বৌদ্ধ ধর্মীয় চেতনার মধ্য দিয়ে আদিবাসী রাখাইনদের ৩ দিন ব্যাপি রাখাইনদের বর্ষবরণের সামাজিক অনুষ্ঠান সাংগ্রাই বা জলকেলী উত্সবের শুরু হয়েছে৷ বৃহস্পতিবার বিকেল ২টায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের হয়ে আগামী শুক্রবার শেষ হবার কথা রয়েছে বলে আয়োজক কমিটি সুত্রে জানাগেছে৷ প্রতি বছরের মত পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার বিভিন্ন রাখাইন পল্লী থেকে সহাস্রাধিক রাখাইন তরুন-তরুনীরা এ উত্সবে যোগ দেয়৷ কুয়াকাটার আদিবাসি রাখাইন সমপ্রদায় বিশ্বাস করে, পুজা আর্চনা শেষে এ দিন গুলোতে পরস্পর পরস্পরের প্রতি জল ছুড়ে দিলে পাপ পঙ্কিলতাকে ধুয়ে মুছে নতুন জীবনের সুচনার পথ সুগম হয়৷ তাই তারা প্রানের উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে সামাজিক বর্ষবরণ অনুষ্ঠান জলকেলী উত্সবে৷ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতেই রাখাইন তরুন-তরুনীরা তাদের দলীয় সুচনা
সংগীত,রাখাইন নৃত্যও সাংগ্রাইয়ের মূল প্রবন্ধ মঞ্চে পরিবেশন করে ৷ তারপর রাখাইন তরুন-তরুনীরা সারিবদ্ব ভাবে দাড়িয়ে একে অপরকে জল ছিটিয়ে উত্সবে অংশ নেন৷ জলকেলি পরিচালনা পর্যদের কাছ থেকে উত্সবে অংশ নেয়া রাখাইন তরুনদের পানি কিনতে হয় টাকা দিয়ে অপরদিকে তরুনীদের সরবারহ করা হয় বিনা মুল্যে৷ আয়োজকদের অন্যতম স্থানীয় আদিবাসী সমপ্রদায়ের তরুন সমাজকর্মী চোতেন বাবু জানান, তাদের মতে পুরানো বছরের সকল গ্লানি, দুঃখ, বঞ্চনা ধুয়ে-মুছে নতুন দিনে নিজেদেরকে তৈরী করতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারো এ উত্সবের আয়োজন করেছে তারা৷ স্থানীয় আদিবাসী রাখাইনদের ধারনা, পটুয়াখালী-বরগুনা জেলার প্রায় ৩ হাজার আদিবাসী এবং হাজার হাজার পর্যটকদের উপস্থিতিতে এ উত্সব কুয়াকাটায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে৷রাখাইন ওয়েল ফেয়ারের সভাপতি বাবু উথাচিন তালুকদার বলেন, জলকেলি উত্সব স্থানীয় রাখাইনদের আর্থিক সহযোগিতা হচ্ছে৷ তিনি আরও বলেন,বিলুপ্তির পথে রাখাইন সংস্কৃতি ধরে রাখতে সরকাররের সহযোগিতা কামনা করছি৷