নুরজ্জামান মামুন : কলাপাড়ায় শতবছরের ঐতিহ্যবাহী একটি স্থাপনা সংস্কার না করে নাম মাত্র মূল্যে বিক্রি করে দিয়েছে উপজেলা ভূমি অফিস। স্থাপত্য নিদর্শটি সংস্কার না করে বিক্রি করে দেয়ায় স্থানীয় প্রবীন ব্যক্তিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ। এলাকাবাসীর দাবি ভবনটি সংস্কার করে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি রৰা করা হোক।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বিধি অনুযায়ি বাংলোটি নিলামে বিক্রির আয়োজন করা হয়। সে অনুযায়ি বুধবার দুপুরের দিকে ১৮ জন ব্যক্তি নিলাম ডাকে অংশগ্রহন করে। সর্বোচ্চ দুই লক্ষ টাকা ডাকে স্থানীয় ব্যবসায়ী মোঃ সেলিম হাওলাদার বাংলোটি কিনে নিয়েছেন। ইতিমধ্যে নিলাম ক্রেতা টাকাও পরিশোধ করেছেন।
সরেজমিনে বাংলোটি পরিদর্শন করে এবং নিলাম ক্রেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সুদৃশ্য বাংলোটির ৬০টি খুটি সেগুন কাঠের। এছাড়া রম্নয়া, চেরা, জানালা, দরজার ফ্রেম, দোতলার পাটাতনের কিছু কাঠ, আরাসহ অন্যান্য কাঠও সেগুনের। বেড়ার টিনগুলো ভালো। তবে চালের টিন অধিকাংশ নষ্ট হয়ে গেছে।
স্থানীয় প্রবীনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃটিশ শাসনামলে ১৯০৭ সালে দেশের সর্বদক্ষিনের জনপদ সুন্দর বনের অংশ বিশেষ কলাপাড়ায় মানব বসতি গড়ে তুলতে কলোনাইজেশন এলাকা হিসেবে ঘোষনা দেওয়া হয়। তখন বোর্ড অব রেভিনিউর সদস্য ছিলেন এসকোলি। তাঁর সময়কালেই এখানে প্রথম কলোনাইজেশন অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় আতাউর রহমানকে। মূলত তখনকার সময়ই এই বাংলোটি নির্মিত হয় এবং কলোনাইজেশন অফিসাররা এই বাংলোতেই বসবাস করতেন। পরবতর্ীতে উপজেলায় কর্মরত বিচারকদেও আবাসিক ভবন হিসাবে বাংলোটি ব্যবহার করেছেন। পুরনো স্মৃতি ধরে রেখে এর আগে কয়েক দফা সংস্কার করা হয়েছিল বাংলোটির।
শত বছরের ঐতিহ্য ধরে রাখতে বাংলোটির আদল নষ্ট না করে নতুন ইমারত নির্মান করার দাবি জানিয়েছেন প্রবীন রাজনীতিক ও গণফোরামের সভাপতি উসুয়ে হাওলাদার, কমিউনিষ্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক নাসির তালুকদার, সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সভাপতি সাংবাদিক শামসুল আলম, সম্মিলিত নাগরিক সমাজের আহবায়ক ও মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ এসএম মনজুরম্নল আহসান ।
এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, 'আসলে ওই স্থাপনাটি এলাকার দীর্ঘ কালের স্বাক্ষ্য বহন করছে। যে কারণে একটা পুরনো ঐতিহ্য বা স্মৃতি ধ্বংস হোক এটা আমরাও চাইনা। একই স্থানে নতুন একটি ভবন নিমর্ান করা হবে তখন যাতে পুরনো কাঠামো ঠিক রেখে নতুন ভবনটি নির্মিত হয়, সে ব্যাপারে আমারও চেষ্টা থাকবে।
কলাপাড়ায় শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা নাম মাত্র মূল্যে বিক্রি।। এলাকা বাসীর দাবি স্থাপনাটি সংস্কার করে রৰা করা হোক
শুক্রবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০১১