শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১২
পতিত জমিতে সবজি চাষ করে দরিদ্রতাকে জয় করেছে জেলার গলাচিপা উপজেলার দক্ষিন চরখালী গ্রামের লুৎফা বেগম। প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাকে দমিয়ে রাখেতে পারেনি। ইচ্ছা শক্তি আর কঠোর পরিশ্রম দিয়ে দরিদ্রতা ও প্রাকৃতিক প্রতিকূলতাকে জয় করেছে। স্বামী ছালাম সিকদার ক্ষদ্র মৎস্য ব্যবসায়ী। ২০০৭ সালে প্রলয়ংকারী ঘূণীঝড় সিডর সংসার চালানোর শেষ সম্বল মাছের গদি ঘরটি ও কেনা মাছসহ ভাসিয়ে নিয়ে যায়। হঠাৎ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সংসার চালানোর শেষ সম্বল হারিয়ে সর্বশান্ত হয়ে পড়ে লুৎফার পরিবার। ছোট ছোট দুটি কন্যা সন্তান আর নিজেদের দু’জনের আহার জোগাতেই লুৎফার স্বামী ছালাম সিকদারকে অন্যের সাথে কাজ করতে হতো। দুই মেয়ের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। এসময় লুৎফা সংসারের হাল ধরার চিন্তা করলো। বাড়ির কাছে ওয়াপদা বেড়ি বাঁধের বাইরে নদীর পারের নিজের ও প্রতিবেশির কিছু পতিত উচুঁ জমিতে ২০০৮ সালে শীত কালীন সবজি চাষ শুরু করে কিন্তু পুঁজির অভাবে তেমন লাভের মুখ দেখতে পারেনি। ২০০৯ সালের জুন মাসে সুদমুক্ত ঋণের প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে এলো মুসলিম এইড বাংলাদেশের আইডিবির প্রোগ্রামের ফায়েল খায়ের প্রকল্পের কর্মীরা। ওই বছর জুন মাসে প্রথম বার ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে লুৎফা ও তার স্বামী ছালাম সিকদার বর্ষাকালীন সবজী চাষ করে ২০ হাজার টাকা লাভ করে। এরপর আর পিছনে তাকাতে হয়নি লুৎফার। তিন বছর মুসলিম এইড বাংলাদেশের ফায়েল খায়ের
প্রকল্পের ঋণ নিয়ে সবজী চাষ করে এখন সে সাবলম্বী। সংসার পরিচালনা, ঋৃণের টাকা পরিশোধ করে তিন বছরের লাভের ৬০ হাজার টাকা দিয়ে একটি টিনের ঘর তৈরীর পাশাপশি আবার মাছের ব্যবসা শুরু করেছে। লুৎফার দুই মেয়ে মা-মনি (১৩) সপ্তম শ্রেনী ও অপর মেয়ে তানজিলা (৯) তৃতীয় শ্রেনীতে পড়ছে। গলাচিপা অফিসের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মো.মোশাররফ হোসেন জানান, গলাচিপা ব্রাঞ্চে ১৮৪৩ জন হত দরিদ্র পরিবারকে আমারা স্বাবলম্বি করে তোলার জন্য সুদ মুক্ত ঋণের আওতায় এনেছি এবং এই পরিবার গুলো যাতে স্থায়ীভাবে দারিদ্র মুক্ত হয়ে সুখ-স্বাছন্দে জীবন-যাপন করতে পারে এজন্য তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উক্ত লুৎফাসহ অন্যান্য পরিবারের কার্যক্রম দেখে এবং অনুসরন করে পাশ্ববর্তী গ্রামের দারিদ্র মানুষ ও পরিবার গুলো এখন আমাদের কাছে সুদ মুক্ত ঋৃনের জন্য আসছে এটাই মূলত প্রকল্পের লক্ষ্য বললেন মুসলিম এইড বাংলাদেশের ফায়েল খায়ের প্রকল্পের গলাচিপা অফিসের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মোশারফ হোসেন।