বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল ২০১২
আল-আমিন,বরগুনাঃ প্রশ্ন পত্র তৈরী করা, প্রুফ দেখা এবং ছাপানো সহ সকল দায়ীত্ব বরগুনা সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের৷ ভুলে ভরা বরগুনা সদর উপজেলার সকল শ্রেণীর প্রশ্ন পত্র৷ অথচ তিনি কিছুই জানেন না৷ চতুর্থ শ্রেণীর কবিতা পঞ্চম শ্রেণীতে অন্তর্ভূক্ত৷ বাংলা বিষয়ে ৭০ নম্বরের প্রশ্ন পত্র৷ধর্ম বিষয়ে একই প্রশ্ন বার বার ৷পরীক্ষায় প্রশ্ন পত্রে ভুল থাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা প্রশ্নের উত্তর দিতে না পেরে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন৷ জানা যায়,চলমান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম সাময়ীক পরীক্ষায় বরগুনা সদর উপজেলার ২২৪ টি বিদ্যালয়ের তৃতীয় হতে পঞ্চম শ্রেণীর বাংলা,ইসলাম শিক্ষা,ও গনিত বিষয়ের প্রশ্ন পত্রে ভুলে ভরা৷ চতুর্থ শ্রেণীর বাংলা বিষয় পূর্নমান ১শ" লেখা থাকলেও বাস্তবে ৭ টি প্রশ্নে নম্বর বন্টনে দেয়া ৭০৷ কতগুলো প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে তা লেখা নেই৷ চতুর্থ শ্রেণীর ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে পূর্নমান ১শ" লেখা থাকলেও বাস্তবে রয়েছে ১৩০ নম্বর৷তৃতীয় শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন পত্রে ৬ নম্বর প্রশ্নে এক কথায় প্রকাশ ক ও ঘ একই প্রশ্ন লেখা রয়েছে৷ চতুর্থ শ্রেণীর ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে ৮-১০ নম্বর প্রশ্ন একই শ্রেণীর বাংলা বই থেকে নেয়া৷ পঞ্চম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্নে ১৪ নম্বর প্রশ্ন বীর পুরুষ অথবা তুলনা কবিতার মূল ভাব নিজের ভাষায় লিখতে বলা হয়েছে৷ অথচ বীর পুরুষ কবিতাটি চতুর্থ শ্রেনীর ৷ অপরদিকে পঞ্চম শ্রেণীর গনিত
বিষয়ে পূর্নমান ১শ" লেখা থাকলেও ১৪ টি প্রশ্নে ১৩০ নম্বর বন্টন করা হয়েছে৷ তৃতীয় শ্রেণীর ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে পূর্নমান ১শ' থাকলেও প্রশ্নে মান বন্টন নেই৷ একই প্রশ্নের ২ নম্বরের" খ" ও ৪ নম্বর প্রশ্নের" ঙ" একই ৷ নাম প্রকাশ না করার শর্তে কমপক্ষে ১০ জন প্রধান শিক্ষক ও ২৫ জন বিভিন্ন শ্রেণীর অভিভাবক জানান ,সরকার প্রাইমারীর বিদ্যালয়ের শিক্ষার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন৷ বরগুনার প্রাইমারীর শিক্ষার মান এই হাল হলে ভবিষত্ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে৷ একাধিক শিক্ষকরা বলেন ,বরগুনা উপজেলা শিক্ষা অফিস প্রশ্ন পত্র তৈরী প্রুফএবং ছাপার কাজ করে থাকেন৷ প্রধান শিক্ষকরা প্রতি সেট প্রশ্ন ৩ টাকা করে ক্রয় করেন ৷ বরগুনা সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার ধীরেন্দ্র নাথ চন্দ্র শিকদার বলেন, ১ম সাময়ীক পরিক্ষায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,রেজিস্ট্রার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ২২৪ টি ৷ ৩৬ হাজার ৬ শ' সেট প্রশ্ন ৩ টাকা করে বিক্রি হয়েছে ১ লক্ষ ৯ হাজার ৮'শ টাকা ৷ প্রশ্ন পত্র ভুলে ভরা জানতে চাইলে তিনি বলেন এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না৷তিনি আরো বলেন বরিশাল মায়ের দোয়া প্রেস ভুল করতে পারে৷ উপজেলা শিক্ষা অফিসের উপর কোন দায়ীত্ব বর্তায় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার অফিসে আরো লোক আছে তাদের কাছে জেনে নিন৷আমি কিছু জানিনা৷ জেলা শিক্ষা অফিসার মুঠোফোনে বলেন, আমি দেখেছি অনেক প্রশ্নে ভুল আছে ৷ সংশোধনের নিদের্শ ও দিয়েছি৷ তিনি এর বেশি কিছু জানাতে রাজি নয়৷


