রবিবার, ১৫ এপ্রিল ২০১২
মো: সালাহউদ্দিন,বামনা প্রতিনিধিঃ ৩১ শয্যা বিশিষ্ট বরগুনার বামনা উপজেলার স্বাস্থ্য কমপেস্নঙ্টি চলছে মাত্র একজন চিকিত্সক দিয়ে৷ এছাড়া প্রয়োজনী নার্সের সংকটসহ এঙ্-রে মেশিন ও চিকিত্সা সরঞ্জামাদির অভাবে এ জনপদের লৰাধিক মানুষ চিকিত্সা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে৷ কোন চিকিত্সক না থাকায় হাসপাতালের নার্সরাই এখানের মূল চিকিত্সক৷ হাসপাতালে কর্মরত চিকিত্সক বলতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা৷ তাকে হাসপাতালের প্রশাসনিক কাজসহ নানা সভা সেমিনার সামলাতে ব্যসত্ম থাকতে হয়৷ ফলে এ হাসপাতালটি চলছে কার্যত চিকিত্সক বিহীন৷হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে, স্বাস্থ্য কমপেস্নঙ্ ে ১৩জন চিকিত্সকের মধ্যে ১০ জন চিকিত্সকের পদই গত কয়েক বছর ধরে শুন্য৷ তবে এ হাসপাতালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ আরো দুইজন চিকিত্সক কর্মরত ছিলেন৷ এদের মধ্যে চিকিত্সক মো. মাসুদুর রহমান গতবছর মে মাস থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত৷ অন্য চিকিত্সক মো. রাজিব হোসেন গতবছর নভেম্বর মাস থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত৷ ওই দুই চিকিত্সক কর্তৃপৰের কাছ থেকে কোন ছুটি না নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন৷ ফলে ১৩জন চিকিত্সকের মধ্যে ১২জনের পদই এখন শূণ্য হয়ে পড়ায় মাত্র একজন চিকিত্সককে পুরো হাসপাতাল সামাল দিতে হচ্ছে৷ অনুপস্থিত ওই দুই চিকিত্সক কোথায় আছেন হাসপাতাল কর্তৃপৰের কাছে তার সুনির্দিষ্ট
কোন তথ্য নেই৷ এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. সোহরাফ হোসেন জানান,অনুপস্থিত ওই দুই চিকিত্সক কোন ছুটি নেননি৷ দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার ব্যাপারে তাদের প্রশাসনিকভবে চিঠি দেওয়া হলেও কোন সাড়া পাওয়া যাচ্ছেনা৷জানাগেছে, হাসপাতালের চিকিত্সা সহকারী তিনজন, নার্স দুইজন, এমএলএসএস দুইজন, অফিস সহকারী একজন, ঝাড়ুদার দুইজন, ল্যাব টেকনিশিয়ান দুইজন,স্টোর কীপার একজন,ওয়ার্ড বয় দুইজন,পাচক একজন ও সুইপার পদে একজনের পদ শূণ্য৷ এছাড়া ফামর্াসিস্ট ল্যাব টেকনিশিয়ান পদে মাট পাঁটি পদ বহুবছর ধরে শুন্য রয়েছে৷ সংগত কারনেই বামনা হাসপাতালের চিকিত্সা সেবা চলছে অনেকটাই দায়সারাভাবে৷একদিকে ডাক্তারের সংকট অপরদিকে অবকাঠামো সমস্যায় হাসপাতালের চিকিত্সা সেবা পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়েছে৷ হাসপাতালে সাধারন রোগী ভর্তি হলেও তাকে বরগুনা কিংবা বরিশালে স্থানানত্মর করা হয়৷ এ ব্যাপারে বামনা সারওয়ারজান পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিৰক মো. আলতাফ হোসেন বলেন, এই হাসপাতালে চিকিত্সা সেবা বলতে কিছুই নেই৷ হাসপাতালটি চলছে একরকম দায়সারা ভাবেই৷ হাসপাতাল ভবন নতুন রংয়ে ঝকঝকে হলেও এখানে কোন চিকিত্সক নেই ৷ তাই কোন চিকিত্সাও নেই৷হাসপাতালে প্যাথলজি বিভাগ বলতে কিছুই নেই৷ কোন পরীৰা নীরিৰা হয়না৷ ফলে দরিদ্র রোগীদের বাইরে থেকে পরীৰা করতে হয়৷ দরিদ্র রোগীদের পৰে তা সম্ভব হয়না৷ ফলে দরিদ্র জনসাধারণ এখানে যথাযথ চিকিত্সা পায়না৷ হাসপাতালে ১টি জেনারেটর দীর্ঘ দিন ধরে বিকল হয়ে থাকলেও তা মেরামতের কোন উদ্যোগ নেই৷ ফলে বৈদু্যতিক লোডশেডিংয়ের সময় পুরো হাসপাতাল থাকে অন্ধকারে৷হাসপাতালে দুইটি এঙ্-রে মেশিন থাকলেও তা গত ১৬ বছর যাবত বিকল হয়ে পড়ে আছে৷ ফলে এখানে কার্যত কোন এঙ্রে করা হয়না৷ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে,বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নঙ্ েএঙ্-েরে মেশিন দুটি৷ ১৯৮৫ সালে একটি এঙ্-েরে মেশিন স্থাপনের পর ২০০৪ সালে উচ্চ ৰমতা সম্পন্ন আরো একটি এঙ্্রে-রে মেশিন স্থাপন করে৷ ওই দুই মেশিন স্থাপনের পর যথারীতি চালু না রাখায় তা নষ্ট হয়ে যায়৷ ফলে স্থানীয় জনসাধারন হাসপাতালের এঙ্-েরে মেশিন দুটি দিয়ে কার্যকর কোন সেবা পাচ্ছেনা৷ এমনকি গত তিন বছর ধরে এঙ্-েরে মেশিন অপারেটর কর্মস্থালে না থাকায় মেশিন দুটি সচল রাখার কোন উদ্যোগ নেই৷এক্্ের-রে মেশিন দুটি ২০০৭ সালে সম্পূর্ন অচল হয়ে পড়ে৷ এছাড়া ওই পদে কর্মরত টেকনিশিয়ান প্রকাশ চন্দ্র মন্ডল গত ৪ বছর পূর্বে প্রেষনে বদলী হয়েছেন৷ তার বেতন ভাতা এই স্বাস্থ্য কমপেস্নঙ্ থেকে তিনি উত্তোলন করেন৷ গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সেনাবাহিনী প্রশাসনিক উদ্যোগ নিয়ে প্রেষনে বদলী হওয়া ওই টেকনিশিয়ানকে বামনা হাসপাতালে এনে একটি এক্্ের-রে মেশিন চালু করে৷ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শেষের দিকে ওই টেকনিশিয়ান আবার চলে যান৷ এ অবস্থায় মেশিন দুটির কার্যক্রম পূনঃরায় অচল হয়ে পড়ে৷বামনা হাসপাতালের এঙ্-েরে মেশিন দুটি চালু না থাকায় দরিদ্র রোগীদের বাহির থেকে অধিক মূল্যে এঙ্-েরের কাজ সারতে হয়৷প্রেষনে বদলী হওয়া হাসপাতালের এঙ্-েরে টেকনিশিয়ান প্রকাশ মন্ডলের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমার প্রেষনের বদলীর মেয়াদ শেষ হলে হাসপাতালের কাজে যোগদান করব৷ কবে নাগাদ শেষ হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন ,আগামী মাসে যখন বেতন নিতে আসবো তখন বলতে পারবো ৷হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগিরা অভিযোগ করেন,হাসপাতালে ভর্তির পর রোগিরা চিকিত্সকের অভাবে যথাযথ সেবা পাচ্ছেনা৷ এমনকি হাসপাতাল কর্তৃপৰের দেওয়া নিম্নমানের খাবার নিয়েও রোগিরা ৰোভ প্রকাশ করেন৷এ ব্যাপারে বামনা স্বাস্থ্য কমপেস্নঙ্রে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতর্া ডা. মো. সোহরাব হোসেন,জানান, হাসপাতালের অকোজে এক্্ের -রে মেশিন মেরামতের জন্য উধ্বর্তন কতর্ৃপৰে জানানো হয়েছে৷বরগুনা জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ. এইচ.এম জহিরম্নল ইসলাম, বামনা হাসপাতালের সমস্যা সম্মললিত বিষয় গুলো উধ্বর্তন কতর্ৃপৰে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে৷ অচিরেই হয়ত সমস্যার সমাধান হবে৷


