সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০১২
এনসানী আল মামুন,আমতলী প্রতিনিধিঃআমতলীর বদ্ধ চাওড়া নদীর সুবন্ধী বাধঁ কাটাকে কেন্দ্র করে দু'টি সংগঠন পাল্টা- পাল্টি কর্মসূচি ঘোষনা করেছে। এলাকায় বিরাজ করছে টান-টান উত্তেজনা । এ দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড দু'ব্যান্ডের স্লুইজ গেট নির্মানের প্রয়োজনীয় উদ্দোগ নিয়েছে এ তথ্য দিয়েছেন পাউবোর এক কর্মকর্তা। রবিবার বিকেল চারটায় মোক্তার হোসেন তালুকদার বাজারে বেসরকারী সংস্থা অঙ্ফার্ম (সিএসআরএল)ও এনএস এস এর সহোযোগিতায় নাগরিক ফোরামের ব্যানারে সুবন্ধী বাধঁ কাটার দাবীতে সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। এ সমাবেশে চাওড়ার সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান তালুকদারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন এড. মহসিন, অধ্যাপন আনোয়ার আকন, গাজী রফিক উদ্দিন, এনএসএসএর নির্বাহী পরিচালক শাহাবুদ্দিন পান্না ও সাংবাদিক খায়রুল বাশার বুলবুল। অপরদিকে মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় সুবন্ধী বাজারে বন্ধ চাওড়া নদীর স্থায়ী পানি নিস্কাসনের জন্য বাধঁ কাটা নয় ৪ ব্যান্ডের স্লুইজ গেট নির্মানের দাবীতে সচেতন নাগরিক সমাজ সমাবেশ আহবান করেছে।
আমতলীর পৌরসভা কোল ঘেষা চাওড়া নদীতে দু'যুগ আগে বাধঁ দেয়া হয়। বর্তমানে নদীটি ভরাট হয়ে বদ্ধ নদীতে পরিনত হয়েছে। উপজেলার চাওড়া, কুকুয়া, হলদিয়া, সদর ইউনিয়নের ৩০ গ্রামের উপর দিয়ে ত্রিভূজ আকৃতির প্রভাবিত এ নদীর দৈর্ঘ্য ৩০ কিলোমিটার। রামনাবাধঁ, টিয়াখালী ও পায়রা এ তিন নদীর মুখের সাথে সংযোগ রয়েছে। রামনাবাধঁ নদীর মুখে সুবন্ধী পয়েন্ট, টিয়াখালী নদীর সাথে জুলেখা পয়েন্ট, পায়রা নদীর সাথে খুড়িয়াখেয়াঘাট ও আমতলী নতুন বাজার বাধঁঘাট পয়েন্টে। এ পয়েন্ট গুলোতে স্লুইজগেট ও কালভার্ট রয়েছে। এ গুলোতে সুষ্টু রক্ষনা বেক্ষন না করায় পানি নিস্কাসন হচ্ছে না। এর বিরূপ প্রভাব পরে নদীর স্রোতধারায়। এর ফলে নদীটি দখল করে নেয় কচুরিপানায়। বর্ষা মৌসুমে দু'কুল পানিতে প্লাবিত হয়। শুকনো মৌসুমে ভালো ভাবে পানি নিস্কাসন না হওয়াতে এবং কচুরীপানায় ভরে থাকায় পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পরেছে। চন্দ্র, পাতাকাটা,চালিতাবুনিয়া, কাউনিয়া, মহিষডাঙ্গা, নাচনাপাড়া, উত্তর তক্তাবুনিয়া, রাওঘা, হলদিয়া, পশ্চিমচিলা, ভায়লাবুনিয়া, ঘুঘুমারি, রামজি, চলাভাঙ্গা, লোন্দা, কৃষ্ণনগর গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে নদীর দু'তীরের মানুষ পানি ব্যবহার করতে পারছেনা। এক সময় নৌ-চলাচলের কারনে সংযুক্ত হাঠ- বাজারে কৃষিপন্য কৃষক বিক্রি করার সুযোগ ছিল। বর্তমানে কচুরীপানার কারনে তা বন্ধ হয়ে গেছে। সুবন্ধী পয়েন্টে আশির দশকে বাধঁটি কাটা থাকায় রামনাবাধঁ নদীর সাথে সংযোগ সুবাধের কারনে চাওড়া ইউনিয়নের মোক্তার হোসেন তালুকদার হাট জমে উঠে। নব্বই দশকে পরিবেশ গত কারন ও লবনপানির হাত থেকে ৩০ গ্রামের কৃষি জমি বাচাঁতে বাধঁটি পনুঃরায় দেয়া হয়। এর সুফল পায় ৪ ইউনিয়নের লক্ষাধীক মানুষ। ঘূর্নিঝড় সিডর ও আইলায় এ গ্রাম গুলো প্লাবিত হয়নি। বর্তমানে মোক্তার হোসেন তালুকদার হাট রক্ষায় ব্যবসায়ীরা চাচ্ছে বাধঁটি কেটে দিতে অপরদিকে কৃষক তাদের ফসলী জমি চাচ্ছে বাচাঁতে। এলাকা বাসী চায় পানি নিস্কাসনের স্থায়ী সমাধান। সুবন্ধি গ্রামের মিরাজ মিয়া বলেন বাধঁ রেখে স্লুইজ দিলে আমাদের উপকার হয়। দক্ষিন রাওগার রশিদ মাদবর বলেন "মোগো পানতে ডুবাইয়া মইরেননা মোরা গুরা গাড়া লইয়া বাচতে চাই"। কুকুয়ার শাহআলম জানান পানি নিস্কাশনের জন্য স্লুইজ গেট নিমর্ান করা একান্ত প্রয়োজন। কাউনিয়ার মোঃ ফয়সাল মৃধা জানান পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়া দরকার। চালিতাবুনিয়া গ্রামের গনি ঘরামী বলেন " মোরা বাধঁ কাটা বা না কাটা বুঝিনা চাই পানি সরানোর স্থায়ী ব্যাবস্থা"। কাউনিয়া গ্রামের সফেজ মৃধা বলেন " আগের নাহানা পানি সরতে পারে তার ব্যাবস্থা চাই। সুগন্ধী গ্রামের জামাল হোসেন বলেন বাধঁ কাটা কোন স্থায়ী ব্যাবস্থা হতে পারেনা। উত্তর রাওঘা গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন (৫০) বলেন " মোরা বাধঁ কাটতে চাই না- চাই পানি সরানোর স্থায়ী ব্যাবস্থা"। কৃষ্ণনগর গ্রামের হানিফ মিয়া বলেন" হুনছিলাম ছুগন্ধীতে স্লুইজ গেট হইবো এ হোন হয় নাই"। কুকুয়ার মাসুদ তালুকদার বলেন পানি নিস্কাসনের স্থায়ী ব্যাবস্থা চাই তবে বাধঁ কাটা কোন স্থায়ী ব্যাবস্থা হতে পারে না।
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এ্যাড. মোঃ মাহাবুবুর রহমান বলেন বৃহৎ জনগনের জন্য পানি নিস্কাসনের স্থায়ী ব্যাবস্থা নেয়া হবে। বরগুনা -১ ( বরগুনা-আমতলী-তালতলী) আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. ধীরেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ শম্ভু গত ৬ জানুয়ারী আমতলী উপজেলা পরিষদ চত্বরে সার ও বীজ বিতরনে কৃষক সমাবেশে বলেন চাওড়া বদ্ধ নদীর পানি নিস্কাসনের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যাবস্থা নিচ্ছে। বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ- সহকারী প্রকৌশলী আবু জাফর আলমগীর হোসেন জানান সুবন্ধী পয়েন্টে বাঁধ কাটার কোন পরিকল্পনা নেই। এখানে দ'ু ব্যান্ডের স্লুইজ গেট নির্মানের জন্য শীঘ্র টেন্ডারে হচ্ছে।