রবিবার, ২২ এপ্রিল ২০১২
উত্তম গোলদার: গত বছরের সাফল্যের পর সূর্যমূখী ফুলের চাষ করা হয়েছে ঘটকের আন্দুয়া গ্রামসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়৷ পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব কোনে গ্রামটির নাম ঘটকের আন্দুয়া ৷ এই গ্রামে মাঠ জুড়ে রয়েছে সূর্যমূখর্ীর বাগান৷ বাগানের ফুল দেখে কৃষকরা মনে করছে তাদের সূর্যমূখীতে বাম্পার ফলন হবে৷ তাই অনেকেই আসছে এই দৃশ্য দেখতে৷ কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, শুধু ঘটকের আন্দুয়া নয়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সূর্যমূখী ফুলের চাষ করা হয়েছে৷ কৃষক মোকলেচ আকন জানান, সূর্যমূখী একটি লাভ জনক কৃষি পন্য৷ উত্কৃষ্ট ভোজ্য তেলবীজ হিসাবে সূর্যমূখীর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে দেশব্যাপী৷ তাই সল্প খরচে সূর্যমূখী ফুলের চাষ করেছি৷ সবকিছু ঠিক থাকলে আর কিছুদিন পর ফসল ঘরে তুলতে পারলে কয়েকগুন টাকা লাভ হবে৷ এ আশায় ক্ষেতে পরিচর্যায়
ব্যস্ত মোখলেচ আকন৷ সূর্যমূখী ফুলের চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে মোখলেচ৷ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ২৫ একর জমিতে সূর্যমূখী ফুলের চাষ করা হয়েছে৷ অনাবাদী জমিতে অধিক ফলনশীল এবং এলাকার কৃষককে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যেই সূর্যমূখী ফুলের চাষ করছে৷ কৃষক মোঃ মোতালেব মোল্লা ও আবদুর রফিক মোল্লা জানান, গত বছর বেসরকারী সংস্থা ব্র্যাক এবং উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় এখানে সূর্যমূখী ফুলের চাষ করেছি৷ তাই এবছরও ফলনও হয়েছে বেশ ভাল৷ আমাদের দেশে চাষকৃত বিভিন্ন জাতের তেল বীজের চেয়ে সূর্যমূখী আবাদ সহজ এবং অন্যদিকে বেশি লাভ৷ তাই অনেক কৃষকই এবারের সূর্যমূখীর ফুলের চাষ করে৷ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাইদুর রহমান ভোরের আলো-কে বলেন, দো-অাঁশ কিংবা বেলে দো-আঁশ মাটিতে সূর্যমূখী বেশ ভাল জন্মে৷ পানি জমে না এমন জমিতে ৪/৫ বার চাষ দিয়ে সারি বেঁধে বীজ বপন করতে হয়৷ বীজ বপনের আগে এবং চারা গজানোর পরে জমিতে সার দিতে হয়৷ তাতে ফলন পাওয়া যায় ভালো৷ এবার যে বীজ উত্পন্ন হবে তা সবগুলো বিক্রি করে দিতে হবে৷ কারণ এ এলাকায় বীজ ভাঙ্গানোর কোন ব্যবস্থা নেই৷ ২৫ একর জমিতে ১৩ মেট্রিক টন বীজ উত্পাদন ধরা হয়েছে৷ এ থেকে ৩ মেট্রিক টন তেল পাওয়া যাবে বলে কৃষি বিভাগ জানায়৷


